Posts

আত্মকথন কিংবা গল্প

৫-আবু আশফাক্ব চৌধুরী।।আনারকলি তোমায় বলি আত্মকথা গল্পবিলাস
ছায়া গাছের নীরব কোণে সংগোপনে একটা দূরভাষ
জলভরা চোখ শুকনো মুখে সেই যে চাতক
চেয়ে থাকতো আকাশ পানে
অঝোর ধারা বৃষ্টিপাতের আশা নিয়ে
উপরে মুখ শুকনো ঠোঁটে আশার আঁচল
জল ছলছল তৃষ্ণ আঁখি...
আমি তারে দেখেছি সারা জীবন
আমার ভেতর 
রুক্ষ স্বরে রক্তক্ষরণ ডাকছে শুধু
ফাঁদের ঘুঘু বন্দিজীবন পিঞ্জরায়ছায়া মাখা মন্দ বায়ু বইতো যখন
বৃষ্টিপাতের আগাম ভেবে চাইতো এ মন
ফ্যাকাসে চোখে ঋদ্ধ বুকে গুন গুনাগুনআনারকলি তোমায় বলি-আত্মকথা
তুমিই স্বজন তুমিই সুজন সারা জীবন
শুকনো জিভে বৃষ্টি ফোঁটা ঢেলে দিলে
তাই লিখেছি আত্মকথন কিংবা গল্প
তোমায় নিয়ে মনের মতন। (১৪/৬/১৮)

মৌন সময়ের মৌ চুক্তি।। আবু আশফাক্ব চৌধুরী।

হেটে যেতে যেতে দেখা দরকার
কারও বাগান বাড়িতে প্রবেশ করছি কী না!
কারও ফলানো ফসলে হাত লাগিয়ে দিচ্ছি কী না!
মৌন সময় তথাগত প্রতারণা নিয়ে
অনেক সময় মঊ চুক্তিতে ব্যস্ত অথচ
আমাকে একটা সতেজ মানুষ হিসাবে
বাঁচিয়ে রাখতে প্রমাণ করতে হবে নিষ্কলঙ্কতা...নির্লোভ প্রসঙ্গ নিয়ে গল্প লেখা সহজ
লোভের যাদুর টান ভীষণ উৎপাতি
তাই ক্ষণেক্ষণে আয়নায় দাঁড়িয়ে
মেপে নিতে হয় নিজের সম্ভাব্য
দৈর্ঘ প্রস্থ বিশালতা
সুতরাং আমি আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা চাই
অন্যের ব্যাপারে অতিরিক্ত ব্যস্ত হতে নেই

প্রতীক্ষার হাত।। আবু আশফাক্ব চৌধুরী।।

দুরান্তের শেষপ্রান্তে প্রতীক্ষার হাত
পথে বসে পথ চেয়ে থাকে
আমৃত্যু চয়ন চিত্র দেখে দেখে অভ্যস্ত
আমাদের মন চেনে তাকে
খুব ভালভাবে চেনে
আমরা সে পথের পথিক হতে রাজি নই
অথচ কেমন করে পা পিছলে অথবা
অজান্তে হাঁটি বারবার হাঁটি সেই নিরালা পথে
যেখানে একা হতে হয় নির্বস্ত্র সঙ্গীহীন
চোখ থেকে সরে পড়ে সকল পর্দা
নীল আকাশের কোল ছাড়া কেউ নেই
বন্ধুরা হাত নেড়ে টা টা দেখায়
হুইসেল বাজার আগে ওঠে যেতে হয়
ঘর ছাড়া রোদ্দুরে একপ্রকার পলায়ন
প্রতীক্ষার হাতের কাছে...তুমি যাবে আমি যাব পরপর আগেপিছে
নিরুদ্দেশ অলঙ্ঘ্য যাত্রা প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে আছে
কথা হল কতটুকু তোশা নিয়ে নিবিড়
বন্ধুর কাছে এ প্রত্যাবর্তন না কী
শূন্যহাত শুধু আফসোস!!

একটা মিথ্যার আকাশ।। আবু আশফাক্ব চৌধুরী।

প্রতিদিন টুকরো টুকরো মৃত্যু নিয়ে
বেঁচে থাকি ভাসমান হাঁসের পালকের মতো
রাত ছুঁয়ে থাকে গভীর ঘুমের আকাশ
নির্লিপ্ত ভাবনার ছায়া তূলো মেঘ ওড়ে
প্রতিদিন একটা মিথ্যার আকাশ মাটি ছুঁয়ে
প্রতিজ্ঞাপ্রবর শপথের প্রতারণা জাগায়
বিন্দুবিন্দু আশার কুহক  কুয়াশার টপটপে
বেঁচে থাকি সুদীর্ঘ কাল যতদিন আয়ু থাকে বাকি।প্রতিদিন শব্দগুলো কথা হয়ে প্রজাপতি ডানা
আভোরসন্ধ্যা জুড়ে পুরাতন মেসোপটেমিয়া
নগরীর পর নগরী গড়ে তুলে মাটির গর্ভে
শুনশান পৃথিবীকে সাজাতে ব্যস্ত দু হাত
অবশেষে সময়ের কাছে নি:স্ব প্রণিপাত
প্রতিদিন এইভাবে শূন্য ভরা স্বপ্নের খেলা
জীবনের বরণীয়  দুর্দম কালাতিপাত।।

জ্যামিতিক রশ্মির অন্ধকার।। আবু আশফাক্ব চৌধুরী।।

ইলেকট্রন প্রোটন নিউট্রন ....
তারপর... দুশো বছর
মেনে নিলাম বিনা দ্বিধায়এল নতুন আবিষ্কার
আলফা বিটা গামা...
রশ্মির খেলা...অদৃশ্য হল প্লুটো
জ্যামিতিক অ আ ক খ
রঙ বদলায়আমাদের বিশ্বাস পাখির মতো
ডালে ডালে ঘুরে
সক্রেটিসের হত্যার পাশাপাশিচমকে ওঠে ত্রিপাদ ভূমি
আলো আর আলোর মাঝে
শুয়ে থাকে ঝাঁঝালো অন্ধকার
বিশ্বাসের বাসি লতা মাচা খুঁজে
এখনও গাণিতিক বেড়ালের রাস্তা পারাপার।

নীলকন্ঠী হাওয়া।।আবু আশফাক্ব চৌধুরী।।

চৌকাঠে রজনী আটকে গেছে
প্রলম্বিত শিরস্ত্রাণ
ভোরের পাখির মাসুম পালকগুলো
ঝরে পড়ে স্বপ্নের শিথানে-
পৌষের কুয়াশা ঘেরা চোখ
গর্ভবতী গাছের কাছে নতজানুসময় আটকে থাকে ছেঁড়াখোঁড়া ঘুড়ির মতো
বাঁশঝাড়ের চূড়ান্ত চূড়ায়
নগ্নদেহী সভ্যতার প্রাতঃভ্রমণ
সুস্বাস্থ্যের পরিপন্থী  তবু চুপ
শতশত নির্মম ঘটনা নৈমিত্তিক গা-সওয়া
চারপাশে অন্ধকারের ছায়া
নদীরা চোখের জলে অবগাহন করে
প্রতিরোধহীন নীলকন্ঠী হাওয়ায়...

সুখটান।। আবু আশফাক্ব চৌধুরী।।

ওড়ছে বৃন্দাবনী ধোঁয়া
সুখটান - হুঁকো চক্কর কাটছে
ভদ্রলোকের মতো ধীর পা
কতিপয় আধা বৃদ্ধ  যুদ্ধের গল্পে ব্যস্ত
একটু পরপর  চোখ বুঁজা
সুখটান...আসলে এখানে সবাই বক্তা
কেউ শ্রোতা নেই
কারো কাছে কোন অস্ত্র নেই
অথচ তুমুল  যুদ্ধ
কোন কাজ নেই-সবাই দারুণ ব্যস্ত।