কথা বলবোনা কোনদিন।
আর কথা বলবোনা কোনদিন।।
মোহাজির হুসেইন চৌধুরী
জানি থাকবনা বেশি দিন
ফিরে যেতে হবে
একটা সুনির্দিষ্ট পরিভ্রমণ নিয়ে
এই আসা যাওয়া
প্রতিদিন জ্বলন্ত মোমের মতো
ফোঁটা ফোঁটা ঝরে যাচ্ছে আয়ু
দেখতে চেয়েছিলাম একটা দূষণবিহীন আকাশ
আপ্লূত রশ্মিতে হেসে ভাসা বিশুদ্ধ বাতাস।
চারপাশে বনফুলে ঘেরা রঙিন চাদর
রাতের জ্যোৎস্না ধারা নিশাচর পাখির
অবিরত সুরের ঝংকার
নক্ষত্রের ভালবাসা বিনিময়
আর এক সুললিত নদী
পেয়েছি বাসি রক্তে লুটোপুটি বিদ্বেষের
আক্রোশে ভরা হিংসার প্রজ্বলিত আগুন
নীল খসে পড়ে গলিত লাভার মতো
আবছা অন্ধকার
বিষন্ন বিবেক কুয়াশার চাদর বিছিয়ে
রাজতন্ত্রের মন্ত্র পাঠ করে
বাতাস ক্রমশ ভারি হয়ে ওঠছে
ঠোঁটে ঠোঁটে বর্ষে বাণী অমানবিকতার
চেয়ে দেখি ফুলে ফুলে ঝরে
বিষাক্ত মধুর স্পন্দন
জানিনা নূহের কিস্তি আবার
কবে ফিরে আসবে তুলে নিতে
নাফরমান কেনানের সহচর
আমি কি দেখব সেই সুসংহত পৃথিবীকে
যার স্বপ্ন যুগযুগ পুষেছি অন্তরে
মধুমাখা বুলি আর শুধু ভালবাসা
হরেকের সুখেদুঃখে সকলেই পরম প্রত্যাশা।
এ আমার আজীবনের স্বপ্ন ও সাধনা
অস্ফুট আর্তনাদ নিয়ে ফিরে যেতে হবে বাড়ি!
কাঙ্খিত স্বপ্নগুলো অসহায় পথভিখারিনীর মতো
বাকহীন আশাহীন দোদুল্যমান স্থবির।
ভাবছি আর কথা বলবোনা কোনদিন
চলন্ত স্রোতের সাথে ভেসে যাব খড়কুটো হয়ে
জ্যান্ত সাপেদের আস্ফালন সহ্য করিতে পারিনা আর
মনের অভিকেন্দ্রে অসহনীয় ব্যথাভার
পাশে কেউ নেই শুধু একটা আকাশ
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে
পায়ের তলায় সবুজ ঘাস নতমস্তকে
সয়ে নিচ্ছে সকলের ভার
প্রতিবাদের ভাষাগুলো মৃত শব্দে আত্মসমর্পিত
উদ্যতমুষ্টি চুপসে যাচ্ছে কার হুংকারে
বারবার।
প্রভাতের আলোয় কাঁচের জানলায়
নিজের প্রতিবিম্ব দেখে
পাখিটি যেমন বারবার ঠুকরায়
নিজের শত্রু ভেবে
আমি ক্ষেপে যাই নিজের উপরে
আঘাত করি নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করি
একটা রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে ফিরে যাচ্ছি বাড়ি
অতৃপ্ত স্বপ্ন নিয়ে ভেঙে যায় খেলাঘর
রাতে বিষ প্রাতে বিষ হাতে বিষ পাতে বিষ
বিষবৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে বহমান নদীর উপর।
Comments
Post a Comment