Posts

নতজানু

এতো নতজানু হওয়া ঠিক নয় মানুষের কাছে  মানুষ রঙ পালটায় পলে পলে  মানুষ ঈশ্বর নয় কথা রাখবে  মানুষ কখনো যেতে পারেনা ঈশ্বরের দলে  একটা মানুষ হয়তো দাঁড়িয়ে আছে পুলের কার্ণিশ ধরে  তার হাতপাগুলো কর্মক্ষম নয়  বেশ শান্ত সৌম্য  তুমি ভাবছো কিছু দান করবে অকাতরে  কাছে গেলে বেরিয়ে পড়লো তার লাল চোখ  হাতে ছোরা  মূহুর্তে তোমার দুটো হাত পাকড়ে নিয়ে  সর্বহারা করে দিল ছিনিয়ে সর্বস্ব 

যেভাবে তুমি চাও

যেভাবে তুমি চাও    - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  যেভাবে তুমি চাও ঠিক সেভাবে আমি দাঁড়াতে পারিনা  তোমার কথা মনে পড়লেই কেমন যেন  একটা অন্য বোধ শরীর বেয়ে নামে  আমি ক্ষণিকের জন্য বিচলিত হয়ে পড়ি একটা প্রচণ্ড যাদুকরের মতো  তোমার ইশারায় আমার শরীরের  সমস্ত রগ রেশা লাফাতে থাকে,   ধীরে ধীরে আমি হয়ে ওঠি তোমার আজ্ঞাবহ দাস কিংবা ক্রীতদাস  একটা আবেশে বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায়  আনমনা উদাস যেন আমি আমাতে নেই  তোমাকে দেখলেই একটা ভয় কাজ করে  ভয় নাকি অন্যকিছু!  জিব্রাইলের মতো ছোট হতে হতে  একটা পিঁপড়ার মতো নিজেকে অণুজীব  মনে করি ভয়ের সঙ্গে প্রেমের পিপাসা বেড়ে যায় দ্রুত গতি  তখন আকাশটা আর আকাশ থাকেনা রঙিন মেঘের ছাউনি আর প্রজাপতির স্বপ্ন  দূর নীলিমা থেকে নেমে আসে  আমার কাছে  আমি মিশে যেতে চাই তোমার সত্বায় আনাল হকের চিৎকার শুরু হয়ে যায়  সমস্ত শরীর জুড়ে  একা আমি খুব কাঁদি আকাশ ভাঙা মেঘ আমি নির্জনতা চাই যেন শুধু তুমি আর আমি  নিরালায় প্রেম নিবেদন করি গোপন অভিলাষে। 

বাঁধন হারা

বাঁধন হারা ভালবাসা।।   --- মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  আমাকে একমুঠো অবকাশ দাও  আমি দেব একটা রঙিন আকাশ  আমাকে একরাশ হাসি দাও আমি ফরহাদের মতো পাহাড় কেটে  এনে দেব ভালবাসার নির্ঝর  লাইলীর বিরহী চোখে এঁকে দেব প্রেমের অনবদ্য ছন্দ উন্মাদের মতো ছুটে যাব দিক হতে দিগন্তরে প্রেম পিপাসুর অনিবার তৃষা নিয়ে  মেলে দেব নিজেকে  সাগরে বিছানো কার্পেটের উপর  ঢেউয়ের পর ঢেউ খেলে যাবে এ বুকে  বর্ষাবে বারিধারা  আমার ভালবাসা সেদিন  পাহাড় চূড়ায় কেতন উড়ায়ে জানিয়ে দিবে আমি  অলঙ্ঘ্য এক বাঁধন হারা

ভগ্ন চৌকাঠে কার হিতকামনা

ভগ্ন চৌকাঠে যার হিতকামনা    - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  মা মানে একটা দরজা খোলা থাকে  সময় অসময় কিছুই বোঝেনা  অন্তরাল বলে তার কাছে কিছু নেই  নির্দ্বিধায় গমণাগমণ রক্তের বিন্দু থেকে সেই যে সূচনা  স্বপ্নিল আকাশ জুড়ে অনন্য রচনা  সমস্ত না - গোয়ারকে জরায়ুর মুখে  বন্দি রেখে উচ্চারণ করে - "খোকা তোকে আমি ভালবাসি" কাল বয়ে যায় টিক টিক টিক  হাত-পা গুলো কারণে অকারণে  চৌকাঠে আঘাত করে  কখনো কখনো   টুকরো টুকরো ভেঙে পড়ে  ভগ্ন চৌকাঠ থেকে শব্দ ভেসে আসে  খোকা কেমন আছিস  তোর মঙ্গল হোক  সুস্থ থাক সুন্দর থাক...  মা মানে ভেঙে পড়া চৌকাঠ থেকে  পরম্পরাগত হিতকামনা  যার কোন উপমা হয়না। 

শূণ্যের পরে

শূন্যের পরে এক দিগন্তবিহীন আকাশ  মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  শূণ্যের পরে কিছু নেই মনে হয় আর তবু খুঁজে ফিরি বারবার  কে ডাকে আড়াল থেকে চেনা নাম ধরে  যেন ভালবাসা বিলাবে সে অকাতরে  আমি চেয়ে আছি অপলক নয়নে  আকাশের দিকে অশান্ত মনে  তার প্রতীক্ষার মূহুর্তগুলো চক্রাকারে ঘুরে  হৃদয়ের কন্দরে কন্দরে  শূণ্যের পরে এক দিগন্তবিহীন আকাশ  কিছু সুখ কিছু দুখ কিছু দীর্ঘশ্বাস  শায়িত স্বপ্নের রাশি রাশি অসুখ ও বেদনা  শুয়ে আছে সবুজ গালিচায়   আমরা তা দেখি না শূণ্যের আড়ালে স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রেম ও মতান্তর  দুর্বোধ্য ভাষায় খেলে যায় নিরন্তর  রচে উপাখ্যান নি:শব্দ অক্ষরে নিশীথ রাতের বুক চিরে  রসিকজন মেতে ওঠে বিভোর নেশায়  অতি মানুষের অববাহিকায়।  কে তারে পায় কে তারে পরায় সিঁদুর  নিজেকে নিশ্চিহ্ন করে প্রেমিকের বিচলিত সুর  বিরহের প্রতিধ্বনিতে ভারি প্রতিটি প্রহর 

নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।।

নিরাপদ প্রত্যাবর্তন    মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  সন্ধ্যা মেলানো মাঠে  রউয়া বিলের পাড়ে সেই মেয়েটি তই তই তিরি তিরি বলে কাকে ডাকে  দল বেধে নেমে আসা এক ঝাঁক হাঁস  পালক ঝাড়তে ঝাড়তে সায় দেয় সেই ডাকে  মেয়েটির আঁচলে ভয় সম্ভ্রমে ওড়না টেনে  ঢেকে রাখে বুক  সন্ধ্যাটা নিরিবিলি নেমে আসুক।  নিরাপদে ঘর ফেরা হোক।  হে সভ্যতা পথ হাঁটতে হাঁটতে  তুমি অন্ধকার গলিতে ডুবে যাচ্ছ কেন?  ফিরে এসো আলো হাতে নিয়ে  নির্ভয়তার উন্মোচন হোক। 

রক্তাক্ত ঈদের চাঁদ

ঈদের রক্তাক্ত হেলাল      মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  তুমি খুঁজছো খুশির চোখে ঈদের হেলাল আমি দেখছি আকাশ ভরা  টইটম্বুর লালে লাল উঠেছে ঈদের চাঁদ    চাঁদ নয় মনে হয়  শিকারীর ফাঁদ মাসুম শিশুর খুনে রঞ্জিত সভ্যতার মিনার  কলংকের বিপরীতে অলংকৃত কী বিপুল সমাহার  কোথা ঈদ আমি যাই ঈদগার মাঠে হৃদে বাঁধা কালো ব্যাজ টলটল  চোখে জল ফোটে  বুকের ভেতরে এক জ্বলন্ত অঙ্গার  মানুষের পৃথিবীতে এ কী সনসার ইনসাফ জেগে ওঠবে কবে আর কেউ কি বলার নেই -'থামো  কি হচ্ছে এসব?  সব মাঠে নামো' নরসংহারের ধারাসার বন্ধ হোক খুশির বার্তা নিয়ে শাওয়ালের চাঁদ উঠুক ইবলিসের  উড়ন্ত পতাকা ভেঙে পড়ুক  রক্তাক্ত চাঁদ দেখিতে চাইনা আর ঈদ তুমি এসো মানবতার বার্তা নিয়ে  ফিরে এসো বারবার।  গ্রাম ও পোস্ট : বড়যাত্রাপুর। জেলা - কাছাড়। প্রদেশ - আসাম। ভারত।  মোবাইল নং +৯১৯৪৩৫৮৮১৯০৫

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।        - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  বাঙালি হয়ে জন্ম নিয়েছি এই বাঙলার বুকে  আসামের প্রান্ত সীমায় হাজার  বছর আগে প্রপিতামহের হাড়ের গন্ধ এ মাটির শিরায় শিরায় পথে পথে আজ পাড়ায় পাড়ায়  জিজ্ঞাসার হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত  আমার পরিচয়  কখনো মিয়া কখনো ঘুসপেটি কারো শ্লোগানে আমি বাংলাদেশী এন আর সি তে বংশবৃক্ষে শেষ স্বেদবিন্দু রক্তাকারে ঢেলে দিয়ে  প্রমাণ করতে হল এখানে আমার বাড়ি  এখানে আমার ঘর তারপরও  গেলনা মিছে তকমা  কে আমার মা কে আমার বাবা কোনটা বা আমার দেশ তাহলে আমি এক বায়বীয় সন্তান?  আজ থেকে বাসা বাধবো মেঘের দেশে  ওড়ে যাবো দূর থেকে দূরে অনিকেত নিরুদ্দেশে দু:খের গলিতে ঘুরে বৃষ্টি হয়ে পড়ব ঝরে  তোমাদের বাড়ির উঠোনে  আগুনের উল্কা বৃষ্টি নয়  করুণার বারিধারা হয়ে  অন্তরীক্ষ  থেকে  তবু বলতে পারবো আমি জারজ নই এই দেশে এই হাওয়ায় এই তৃণভূমে আমি জন্মেছি তোমাদের অনেক আগে  ভূমিপুত্র ভূমিকন্যা নই মাটির সন্তান  ইতিহাস ক্ষয়ে যেতে পারে  উইপোকা খেয়ে নিতে পারে আমার কংকালে পাবে ...

ছেঁড়া ছাতা

ছেঁড়া ছাতা      - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  দু:খের গলিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে গুটিকয়েক কবিতা  যেন আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে একটা ছেঁড়া ছাতা আমি যখন নিরুপায় হয়ে দু:খের সঙ্গে করি গলাগলি  তারা তখন মুরলি বাঁশির সুর তুলে গায় ভাটিয়ালি  সুখের কপালে কবিতা হয়না কবিতা চায় ভালবাসার বিরহ শিশ্নতোড়া বন্ধু আমার কবিতা লিখে অহরহ। 

স্মৃতিগুলো যদি সশরীরে নেমে আসে

শিশির ভেজা ঘাসে তোমার স্মৃতি ভাসে  তন্ময় মেঘের উড়ন্ত ডানায়  নদীর কিনারে নিস্তব্ধ গাছের বুকে  বাসা বাঁধে অচেনা পাখির মতো  ভোরের আলোয় কিচিমিচি সুরে  আওড়ায় পেছনে ফেলে আসা  স্মৃতির টুকরো টুকরো কথা  ঘুমচোখে আমি জেগে ওঠে শুনি  আবার হৃদয় জুড়ে তোলপাড় ওঠে  তামন্না করি ভীষণ ঝড়ের বেগে  যদি স্মৃতিগুলি ফিরে আসে বাস্তবের জীবন্ত শরীর নিয়ে  আমি কি তাকে দিতে পারি  তার চাহতের ভালবাসা  তার প্রাপ্য সকল আশা ও ভরসা  আমি কি হতে পারি তার নয়নের মণির মতন  সর্বপ্রিয় জন তার বহল হৃদয় জুড়ে  এঁকে দিতে পারি আমার অনন্য আসন? 

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে -।।       মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  তাহলে কি সে-ও লিখে  সারারাত খাতার পাতায়  কবিতার দুর্মূল্য অক্ষর  খুঁজে ফিরে ঈপ্সিত মুখ ভুবনের চরাচরে?  উত্তর বায়ুর কাছে হাত পাতে নতজানু হয়ে থাকে সারারাত  এ কীসের প্রণিপাত এ কীসের গুঞ্জন  নিশীথ পাখির মতন কাকে ডাকে  অন্ধকার আকাশের বুকে  সহসা উদ্বেলিত চোখে  ধরা পড়ে মিটিমিটি শ্রাবণী অক্ষর  সবকিছু লিখা শেষ হলে  দু'বাহুর বেষ্টনীতে মেলে ধরে  আদ্যোপান্ত অক্ষরের সমারোহে  কবিতার প্রাঞ্জল শরীর।  কবিতা আসল নয় সৃষ্টি আর লয়ের অফুরন্ত খেলা  খেলতে খেলতে ফুটে ওঠে স্বগতোক্তি  আমার নিজস্ব কথা কিছু প্রেম কিছু ব্যাথা কিছু কথা  কিছু অলৌকিক অনুভূতি  কাউকে বুঝাতে না পেরে নীরবতার শ্লথ গতি  নি:সঙ্গ সূর্যের মতো  পায়চারি আকাশের দেশে  অতৃপ্ত হৃদয়ের গর্ভে  নেমে আসে কোমল অংকুর  লোকে বলে কবিতা কবিতা  কী সুন্দর ছন্দ ও সুর।। 

কথা বলবোনা কোনদিন।

আর কথা বলবোনা কোনদিন।।  মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  জানি থাকবো না বেশি দিন ফিরে যেতে হবে  একটা সুনির্দিষ্ট পরিভ্রমণ নিয়ে  এই আসা যাওয়া  প্রতিদিন জ্বলন্ত মোমের মতো  ফোঁটা ফোঁটা ঝরে যাচ্ছে আয়ু  দেখতে চেয়েছিলাম একটা  দূষণবিহীন আকাশ আপ্লূত রশ্মিতে হেসে ভাসা বিশুদ্ধ বাতাস।  চারপাশে বনফুলে ঘেরা রঙিন চাদর  রাতের জ্যোৎস্না ধারা নিশাচর পাখির  অবিরত সুরের ঝংকার  নক্ষত্রের ভালবাসা বিনিময়  আর এক সুললিত নদী  পেয়েছি বাসি রক্তে লুটোপুটি বিদ্বেষের আক্রোশে ভরা হিংসার প্রজ্বলিত আগুন নীল খসে পড়ে গলিত লাভার মতো  আবছা অন্ধকার  বিষন্ন বিবেক কুয়াশার চাদর বিছিয়ে  রাজতন্ত্রের মন্ত্র পাঠ করে  বাতাস ক্রমশ ভারি হয়ে ওঠছে  ঠোঁটে ঠোঁটে বর্ষে বাণী অমানবিকতার চেয়ে দেখি ফুলে ফুলে ঝরে বিষাক্ত মধুর স্পন্দন  জানিনা নূহের কিস্তি আবার কবে ফিরে আসবে তুলে নিতে  নাফরমান কেনানের সহচর  আমি কি দেখব সেই সুসংহত পৃথিবীকে যার স্বপ্ন যুগযুগ পুষেছি অন্তরে  মধুমাখা বুলি আর শুধু ভালবাসা  হরেকের সুখেদুঃখে সকলেই পরম প্রত্য...

আমার একটা নদী ছিল ।

সেই নদীটা শুকিয়ে গেছে  - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী। আমার একটা নদী ছিল অনেক লম্বা শরীর  বুকে তার  ছিল ডুবোজল গাছে ঘেরা তীর  পাখিরা সব উড়ে এসে জল খেত এই ঘাটে  পাখপাখালি সকাল সন্ধ্যা খেলতো বুকের মাঠে  তিড়িং তিড়িং নাচতো ফড়িং উড়তো প্রজাপতি  রাতের বেলায় হুরপরীরা খেলত আত্মরতি  স্বপ্নঘোরে উড়িয়ে নিত রাজকুমারীর ভেলা  বাসত ভাল প্রেম বিলাতো কেমন সারাবেলা  সেই নদীটা এখন কেন শুকিয়ে গেল হঠাৎ  হিংসা দ্বেষে শুরু হল ভীষণ উৎপাত সময়গুলো হারিয়ে গিয়ে নামল কালবেলা  সন্ধ্যা নামে তরতরিয়ে মানুষ চেনার পালা ।

পোড়া অক্ষরে কবিতা।।

  পুড়া অক্ষরে কবিতা    - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  পুড়া অক্ষরে কবিতা লিখছি  দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ছে গন্ধের কুয়াশা  আশ্বিনের ঢেউ খেলানো ধানের ডগা মাথা উঁচু করে জানিয়ে যাচ্ছে ভালবাসা  পথচারী মাথা নিচু করে হেঁটে যায় আলপথে নিশুন দুপুর বেলায়  কাপড়ে লেগে আছে কাদামাটির দাগ যেন দু'হাতে জড়িয়ে ধরে জানাচ্ছে  শুভেচ্ছা সলাগ  ওদের ছোঁয়ায় কবিতা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত  কিশোরী বালিকা মেলে ধরে আদিম স্পর্শ  কিছু স্বপ্নের মালা গেঁথে নিয়ে আসে বীথিকা জুঁই  কবিতা জেগে ওঠে সেজে ওঠে মরমি ভূঁই।  গ্রাম ও পোস্ট বড়যাত্রাপুর। জেলা কাছাড়।  আসাম। পিন ৭৮৮১১০ মোব নং ৯৪৩৫৮৮১৯০৫

জীবন - ১

প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত  জীবনকে দেখেছি দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় বারবার উল্টে নিয়ে পড়তে হয়  তারপর বাকিটুকু অপর পৃষ্ঠায়.... পৃষ্ঠা উল্টাতে গিয়ে ধরা পড়ে  উইপোকা খেয়ে নিয়েছে অক্ষরগুলো  এখন সব গুমনামে অতীত  ছেঁড়া বস্ত্রে রাস্তায় শুয়ে থাকা রমণী  হারানো ঠিকানায় নিজেকে খুঁজতে গিয়ে  পুরুষের হাজার ধমক গলায় সুশোভিত অলংকার  তবু হাতড়াতে থাকি এখানে ওখানে  ফেলে আসা পথের আনাচে কানাচে  আমার কন্ঠহারের ফেলে যাওয়া গুটি  অনর্গল পাতার পর পাতা উল্টে যাই আলোটা যতক্ষণ নিভে না যায়  অপর পৃষ্ঠায় অপলক সন্ধানী চোখ। 

সেই মুখ সেই মেয়ে।।

সেই মুখ সেই মেয়ে।।   আকাশ কী জেনেছিল তাকে কতটুকু ভালবাসি তাকে নিয়ে এযাবৎ কতটা কবিতা লিখেছি  সেই মুখ সেই মেয়ে যারা রোজ আসে আমার কবিতায়  গভীর রাতের আঁধারে একা বসে বসে  শব্দ আওড়ায় আমি খেলা করি নি:সঙ্গ নির্জনতার বুকে  তারা কী কোনদিন দেখেছিল উদগ্রীব চোখে  তাদের শরীরের একএকটা অঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম সারারাত  একটা সুশৃঙ্খল জীবনকে বিনষ্ট করে খুঁজেছি কবিতার সূত্রপাত  নেমেছে আপন হতে গঞ্জনার পাহাড়  অসময়ে শরীর ব্যাথা ক্ষয়িত হাড় দুর্ভোগের কণ্টকিত মালা জড়ায়েছি গলে জীবনের মূহুর্তগুলোকে চর্বিত ঘাসের মতো দলে  নিষ্ক্রমণ করেছি এক একটা অক্ষর  ওরা জানলো না জানতে পারল না উদাস নেত্রের এক আশিক দেওয়ানা  তার সমস্ত বৈভব অকাতরে বন্ধক রেখে  পুড়েছে ধূপের মতো  তার সকল শংকা তার সমস্ত ভয় একপাশে ঠেলে রেখে অকুতোভয়  চরম সংকল্প নিয়ে হেঁটে গেছে বিপদসংকুল কত রাত কতটা আঁধার কত প্রতিকূল এক একটা তারার চোখ ঝরায়েছে অশ্রুর সাঁতার  প্রতিবিম্বে  ফুটে ওঠে অনিশ্চয়তা কাতারে কাতার তবুও দাঁড়িয়ে রয়েছি সাধনায় তুলে আনতে পবিত্র অমৃত  যাদেরকে নিয়ে সা...

একটা ছাদ আর একটা আকাশ

ছিলোনা কিছুই না ছাদ না আকাশ  শুধু অরিন্দম শব্দগুচ্ছ আর বায়বীয় আশ্বাস  এলো প্রেম এলো ছন্দ পাহাড়িয়া ভুঁই জুড়ে  কুকীর্তির শ্বেতপত্রে আঁকা হল সৃষ্টির প্রতিভাসে বনমল্লিকার হাতের বেহালা সুর তুলে অনভ্যাসে বৃষ্টি তার দৃষ্টি মেলে এঁকে দেয় ছুঁ মন্তর তখনই দাঁড়ায় এসে একটা ছাদ অনন্তর  ছাদের উপর দাঁড়িয়ে কিছু দীর্ঘ শ্বাস  হাত বাড়াতেই নেমে এল একটা  আকাশ  অফুরন্ত ভালবাসা অথবা অনৈচ্ছিক প্রেম স্রষ্টার কীর্তিযশ এভাবেই অনন্ত অসীম  তার মুষ্ঠির ভেতরে বন্দি কাল ও যাপন  শূন্য থেকে শুরু ফের শূন্যের অনুরণন।   

বুকের ভেতর গোলাবারুদ

বুকের ভেতর গোলাবারুদ পুরে রাখি মুখের ঠোঁটে ভালবাসার চড়ুই পাখি  সন্ধ্যা সাঁজে জ্বালিয়ে রাখি ধূপের বাতি নয়নজলে সিক্ত চোখে ধ্যান আরতি  হায়রে আমার অবোধ শিশু পরমেশ্বর  তোমায় ভাবি খেলা ঘরের পুতুল সম কানামাছি খেলার ছলে ধমধমাধম ঠকাই শুধু ক্রীড়াঙ্গনে হাজার বছর  মানুষ খুঁজি একটা মানুষ জগৎ জুড়ে   নকল সোনায় সুনিপুণা আদল গড়ে  যাকে দেখি তার ভেতরে গোলাবারুদ  আগুন শুধু আগুন ভরা তালেমামুদ অবশেষে নিজের দিকে তাকাই যখন  আশীবিষের আশিমণ অন্তর্দহন টের পাওয়া যায় বুকের ভেতর  মানুষ হওয়ার কল্পনাটাই দূর অন্তর 

কিরণের ছয়লাপ রেখে যাব

অনিশ্চিত জীবনের কাছে কি রেখে যাব কিছু শব্দ কিছু অক্ষর অথবা চিরন্তন ছাপ প্রজন্মাবধি বিকরিত কিরণের ছয়লাপ  যা আরেকটা নতুন জীবনে এনে দেয় সূত্রপাত  আমাকে ভেবে নিতে হবে এ চলার পথে  আমি শুধু আমার জন্যে আসিনি পৃথিবীতে  কাঙাল হাত নিয়ে অন্যের আনন্দ সুখ হাতড়িয়ে নিতে।  যত পারি বিলাতে বিলাতে যাব স্বাচ্ছন্দ্যের অমৃত ফল। আমি কাঁটা নয় ফুল হয়ে সবার অন্তরে ফুটে থাকতে চাই ভালবাসা বিলিয়ে যাব সারা যাত্রাপথে  ফেরাপথে আমার নেওয়ার কিছু নেই। 

শহীদের নি:শব্দ অক্ষর

শহীদের নি:শব্দ অক্ষরে লেখা হল যে ইতিহাস  ম্লান করতে পারেনা তারে  কোন যুগ কোন প্রযুক্তির ছাপ মেদিনীর বুক চিরে সমস্ত খননের পর ভেসে ওঠে সেই নাম সেই অনন্ত অক্ষর  এক নয় দুই নয় বারবার শতবার  বুকের স্পন্দনে ভেসে ওঠে ছবি তার  উনিশের ধ্বস্ত বুক কেঁপে ওঠে থরথর  পলাশের রঙ মেখে বাঙালির অন্তর  একাদশ শহীদের স্মরণে জেগে ওঠে  উনিশ এলেই তাই বাঙালির হৃদয় জুড়ে  এক অনাবিল অনুভূতির ফুল ফোটে।