Posts

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে -।।       মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  তাহলে কি সে-ও লিখে  সারারাত খাতার পাতায়  কবিতার দুর্মূল্য অক্ষর  খুঁজে ফিরে ঈপ্সিত মুখ ভুবনের চরাচরে?  উত্তর বায়ুর কাছে হাত পাতে নতজানু হয়ে থাকে সারারাত  এ কীসের প্রণিপাত এ কীসের গুঞ্জন  নিশীথ পাখির মতন কাকে ডাকে  অন্ধকার আকাশের বুকে  সহসা উদ্বেলিত চোখে  ধরা পড়ে মিটিমিটি শ্রাবণী অক্ষর  সবকিছু লিখা শেষ হলে  দু'বাহুর বেষ্টনীতে মেলে ধরে  আদ্যোপান্ত অক্ষরের সমারোহে  কবিতার প্রাঞ্জল শরীর।  কবিতা আসল নয় সৃষ্টি আর লয়ের অফুরন্ত খেলা  খেলতে খেলতে ফুটে ওঠে স্বগতোক্তি  আমার নিজস্ব কথা কিছু প্রেম কিছু ব্যাথা কিছু কথা  কিছু অলৌকিক অনুভূতি  কাউকে বুঝাতে না পেরে নীরবতার শ্লথ গতি  নি:সঙ্গ সূর্যের মতো  পায়চারি আকাশের দেশে  অতৃপ্ত হৃদয়ের গর্ভে  নেমে আসে কোমল অংকুর  লোকে বলে কবিতা কবিতা  কী সুন্দর ছন্দ ও সুর।। 

কথা বলবোনা কোনদিন।

আর কথা বলবোনা কোনদিন।।  মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  জানি থাকবনা বেশি দিন ফিরে যেতে হবে  একটা সুনির্দিষ্ট পরিভ্রমণ নিয়ে  এই আসা যাওয়া  প্রতিদিন জ্বলন্ত মোমের মতো  ফোঁটা ফোঁটা ঝরে যাচ্ছে আয়ু  দেখতে চেয়েছিলাম একটা  দূষণবিহীন আকাশ আপ্লূত রশ্মিতে হেসে ভাসা বিশুদ্ধ বাতাস।  চারপাশে বনফুলে ঘেরা রঙিন চাদর  রাতের জ্যোৎস্না ধারা নিশাচর পাখির  অবিরত সুরের ঝংকার  নক্ষত্রের ভালবাসা বিনিময়  আর এক সুললিত নদী  পেয়েছি বাসি রক্তে লুটোপুটি বিদ্বেষের আক্রোশে ভরা হিংসার প্রজ্বলিত আগুন নীল খসে পড়ে গলিত লাভার মতো  আবছা অন্ধকার  বিষন্ন বিবেক কুয়াশার চাদর বিছিয়ে  রাজতন্ত্রের মন্ত্র পাঠ করে  বাতাস ক্রমশ ভারি হয়ে ওঠছে  ঠোঁটে ঠোঁটে বর্ষে বাণী অমানবিকতার চেয়ে দেখি ফুলে ফুলে ঝরে বিষাক্ত মধুর স্পন্দন  জানিনা নূহের কিস্তি আবার কবে ফিরে আসবে তুলে নিতে  নাফরমান কেনানের সহচর  আমি কি দেখব সেই সুসংহত পৃথিবীকে যার স্বপ্ন যুগযুগ পুষেছি অন্তরে  মধুমাখা বুলি আর শুধু ভালবাসা  হরেকের সুখেদুঃখে সকলেই পরম প্রত্যাশ...

আমার একটা নদী ছিল ।

সেই নদীটা শুকিয়ে গেছে  - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী। আমার একটা নদী ছিল অনেক লম্বা শরীর  বুকে তার  ছিল ডুবোজল গাছে ঘেরা তীর  পাখিরা সব উড়ে এসে জল খেত এই ঘাটে  পাখপাখালি সকাল সন্ধ্যা খেলতো বুকের মাঠে  তিড়িং তিড়িং নাচতো ফড়িং উড়তো প্রজাপতি  রাতের বেলায় হুরপরীরা খেলত আত্মরতি  স্বপ্নঘোরে উড়িয়ে নিত রাজকুমারীর ভেলা  বাসত ভাল প্রেম বিলাতো কেমন সারাবেলা  সেই নদীটা এখন কেন শুকিয়ে গেল হঠাৎ  হিংসা দ্বেষে শুরু হল ভীষণ উৎপাত সময়গুলো হারিয়ে গিয়ে নামল কালবেলা  সন্ধ্যা নামে তরতরিয়ে মানুষ চেনার পালা ।

পোড়া অক্ষরে কবিতা।।

  পোড়া অক্ষরে কবিতা লিখছি  দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ছে গন্ধের কুয়াশা  আশ্বিনের ঢেউ খেলানো ধানের ডগা মাথা উঁচু করে জানিয়ে যাচ্ছে ভালবাসা  পথচারী মাথা নিচু করে হেঁটে যায় আলপথে নিশুন দুপুর বেলায়  কাপড়ে লেগে আছে কাদামাটির দাগ যেন দু'হাতে জড়িয়ে ধরে জানাচ্ছে  শুভেচ্ছা সলাগ  ওদের ছোঁয়ায় কবিতা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত  কিশোরী বালিকা মেলে ধরে আদিম স্পর্শ  কিছু স্বপ্নের মালা গেঁথে নিয়ে আসে বীথিকা জুঁই  কবিতা জেগে ওঠে সেজে ওঠে মরমি ভূঁই। 

জীবন - ১

প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত  জীবনকে দেখেছি দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় বারবার উল্টে নিয়ে পড়তে হয়  তারপর বাকিটুকু অপর পৃষ্ঠায়.... পৃষ্ঠা উল্টাতে গিয়ে ধরা পড়ে  উইপোকা খেয়ে নিয়েছে অক্ষরগুলো  এখন সব গুমনামে অতীত  ছেঁড়া বস্ত্রে রাস্তায় শুয়ে থাকা রমণী  হারানো ঠিকানায় নিজেকে খুঁজতে গিয়ে  পুরুষের হাজার ধমক গলায় সুশোভিত অলংকার  তবু হাতড়াতে থাকি এখানে ওখানে  ফেলে আসা পথের আনাচে কানাচে  আমার কন্ঠহারের ফেলে যাওয়া গুটি  অনর্গল পাতার পর পাতা উল্টে যাই আলোটা যতক্ষণ নিভে না যায়  অপর পৃষ্ঠায় অপলক সন্ধানী চোখ। 

সেই মুখ সেই মেয়ে।।

সেই মুখ সেই মেয়ে।।   আকাশ কী জেনেছিল তাকে কতটুকু ভালবাসি তাকে নিয়ে এযাবৎ কতটা কবিতা লিখেছি  সেই মুখ সেই মেয়ে যারা রোজ আসে আমার কবিতায়  গভীর রাতের আঁধারে একা বসে বসে  শব্দ আওড়ায় আমি খেলা করি নি:সঙ্গ নির্জনতার বুকে  তারা কী কোনদিন দেখেছিল উদগ্রীব চোখে  তাদের শরীরের একএকটা অঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম সারারাত  একটা সুশৃঙ্খল জীবনকে বিনষ্ট করে খুঁজেছি কবিতার সূত্রপাত  নেমেছে আপন হতে গঞ্জনার পাহাড়  অসময়ে শরীর ব্যাথা ক্ষয়িত হাড় দুর্ভোগের কণ্টকিত মালা জড়ায়েছি গলে জীবনের মূহুর্তগুলোকে চর্বিত ঘাসের মতো দলে  নিষ্ক্রমণ করেছি এক একটা অক্ষর  ওরা জানলো না জানতে পারল না উদাস নেত্রের এক আশিক দেওয়ানা  তার সমস্ত বৈভব অকাতরে বন্ধক রেখে  পুড়েছে ধূপের মতো  তার সকল শংকা তার সমস্ত ভয় একপাশে ঠেলে রেখে অকুতোভয়  চরম সংকল্প নিয়ে হেঁটে গেছে বিপদসংকুল কত রাত কতটা আঁধার কত প্রতিকূল এক একটা তারার চোখ ঝরায়েছে অশ্রুর সাঁতার  প্রতিবিম্বে  ফুটে ওঠে অনিশ্চয়তা কাতারে কাতার তবুও দাঁড়িয়ে রয়েছি সাধনায় তুলে আনতে পবিত্র অমৃত  যাদেরকে নিয়ে সা...

একটা ছাদ আর একটা আকাশ

ছিলোনা কিছুই না ছাদ না আকাশ  শুধু অরিন্দম শব্দগুচ্ছ আর বায়বীয় আশ্বাস  এলো প্রেম এলো ছন্দ পাহাড়িয়া ভুঁই জুড়ে  কুকীর্তির শ্বেতপত্রে আঁকা হল সৃষ্টির প্রতিভাসে বনমল্লিকার হাতের বেহালা সুর তুলে অনভ্যাসে বৃষ্টি তার দৃষ্টি মেলে এঁকে দেয় ছুঁ মন্তর তখনই দাঁড়ায় এসে একটা ছাদ অনন্তর  ছাদের উপর দাঁড়িয়ে কিছু দীর্ঘ শ্বাস  হাত বাড়াতেই নেমে এল একটা  আকাশ  অফুরন্ত ভালবাসা অথবা অনৈচ্ছিক প্রেম স্রষ্টার কীর্তিযশ এভাবেই অনন্ত অসীম  তার মুষ্ঠির ভেতরে বন্দি কাল ও যাপন  শূন্য থেকে শুরু ফের শূন্যের অনুরণন।