Posts

যদি হারিয়ে যায়

যদি হারিয়ে যায় স্থিতি  মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  যদি হারিয়ে যায় হাতের পাণ্ডুলিপি  হারিয়ে যায় অজস্র কবিতা  খোয়ে যাওয়া ব্যাগে রাখা ছ'শ পাতার সুদীর্ঘ উপন্যাস  অতি সন্তর্পণে রেখে যাওয়া  পুর্বপুরুষের লিগ্যাসিনামা মানে আমার আত্মপরিচয়  জমির জমাবন্দিসহ  স্থিতি ও স্থায়িত্বের দলিল।  বিমুখ  আকাশ যদি  ভেঙে পড়ে মাথার উপর  তাহলে কতটুকু সময় তুমি সজ্ঞানে  দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে স্বভূমির উপর  শিরদাঁড়া সোজা রেখে বলতে পারিস যাক সব কিছু নিপাত যাক আমি তো সশরীরে এখনও বেঁচে আছি  সুঠাম শরীর ও বোধে ফিরে দাঁড়িয়ে  করে নেব পুনশ্চ পুনর্নির্মাণ!  নেপালের বিভীষিকাময় জলস্রোতে ঘর বেঁধে স্মৃতি চিহ্নে এঁকে যাব অনন্য বিস্ময়। 

কোথায় দাঁড়িয়ে আছো

কোথায় দাঁড়িয়ে আছো    - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  একবার আকাশের দিকে চেয়ে দেখো একবার মাটির চারপাশ  তোমার চারদিকের দেয়াল  প্রতিদিন কেমন রঙ বদলে যাচ্ছে  বিশ্বাসের প্রতিশব্দগুলো   সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো  উথাল পাথাল  কোথায় দাঁড়িয়ে আছো?  হাওয়ার দোলন্ত বুকে  নাকি চলন্ত ছায়ার আশ্বাসে নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছো?  তোমার পাশ দিয়ে  যে মানুষটা এই মাত্র হনহন করে চলে গেল  তার মুখটা কতটুকু চেনা না অচেনা  তার প্রতি বিশ্বাস না ভয়  না অন্য  কোন সংশয়  জেগে ছিল তোমার মনে  কোন ভালবাসা বা বিস্ময়  স্থান পেয়েছিল তাৎক্ষণিক  তোমার অবগুণ্ঠিত মনে?  যত বয়স বাড়ছে বাসনার অতৃপ্তি  চারদিকে ঘিরে ধরছে আগাছায়   পরিত্যক্ত  ভাঙা বাড়ির মতো  প্রিয় ফুলগুলো লাফাচ্ছে উঠুন জুড়ে  নবযৌবনা ভ্রমরের সহবত পেতে  রঙ মেখে রঙের খেলা  আগন্তুকের অপেক্ষায় দরজার পর্দাগুলো  দোল খাচ্ছে অনর্গল।  তুমি পড়ে আছো নীরব নিথর যেন ক্লান্ত ট্রেনের চাকা  উপরে নীচে ডানে বামে সবারই রঙ বদলায়  শুধু তু...

ঘুমন্ত ফুটপাতে

ঘুমন্ত ফুটপাতে   মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  ঘুমন্ত ফুটপাতে কারা হাঁটে শ্বাপদের বেসুরো গলা না কী চোরচাপড়ের সতর্ক পায়চারি  উসকুখুশকু কাপড়ে আবৃত  কোন এক নেশাখোর নারী  পুরুষের হাত ধরে হেঁটে যাওয়া  যৌনতার তরবারি  অন্ধকার চারদিকে শুধু অন্ধকার  প্রকৃতটা ঠাহর করা মুসকিল  কারা হাঁটে ঘুমন্ত ফুটপাতে  এত রাতে!   রাত এক রহস্যময় পাললিক ক্যানভাস   তার শরীরের ভাষা বুঝে শুধু  নিষ্পলক আকাশের তারা আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাইটপোষ্ট নির্বাক হয়ে হৃদয়ের প্রতিলিপি পড়ে নেয়  তুমি আমি জানিনা ইতিহাস  যার বর্ণে পত্রে লিখা থাকে  সহস্র সঙ্ঘাত প্রেম বিরহ লালসার ইতিকথা  রাত মানে রাত রাত মানে ঘন অন্ধকার  ঢেকে রাখে সুখদুঃখ সমস্ত সমাচার  কারো কাছে কিছু বলার নেই  পাললিক ক্যানভাসের থরে থরে সাজানো  গা শিউরে ওঠা কত কথা ও কাহিনী  কত ঝড় জল বয়ে যাওয়া মনমোহিনী  নদী আর এক একতারা গুন গুন গুন নীরবে গেয়ে যায় জীবনের গান ঐ শুন ছুটে যায় সমুদ্র অভিমুখে  লীন হয়ে যায় সাগরের স্রোতে  অন্ধকার রাত লেপটে থ...

নতজানু

এতো নতজানু হওয়া ঠিক নয় মানুষের কাছে  মানুষ রঙ পালটায় পলে পলে  মানুষ ঈশ্বর নয় কথা রাখবে  মানুষ কখনো যেতে পারেনা ঈশ্বরের দলে  একটা মানুষ হয়তো দাঁড়িয়ে আছে পুলের কার্ণিশ ধরে  তার হাতপাগুলো কর্মক্ষম নয়  বেশ শান্ত সৌম্য  তুমি ভাবছো কিছু দান করবে অকাতরে  কাছে গেলে বেরিয়ে পড়লো তার লাল চোখ  হাতে ছোরা  মূহুর্তে তোমার দুটো হাত পাকড়ে নিয়ে  সর্বহারা করে দিল ছিনিয়ে সর্বস্ব 

যেভাবে তুমি চাও

যেভাবে তুমি চাও    - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  যেভাবে তুমি চাও ঠিক সেভাবে আমি দাঁড়াতে পারিনা  তোমার কথা মনে পড়লেই কেমন যেন  একটা অন্য বোধ শরীর বেয়ে নামে  আমি ক্ষণিকের জন্য বিচলিত হয়ে পড়ি একটা প্রচণ্ড যাদুকরের মতো  তোমার ইশারায় আমার শরীরের  সমস্ত রগ রেশা লাফাতে থাকে,   ধীরে ধীরে আমি হয়ে ওঠি তোমার আজ্ঞাবহ দাস কিংবা ক্রীতদাস  একটা আবেশে বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায়  আনমনা উদাস যেন আমি আমাতে নেই  তোমাকে দেখলেই একটা ভয় কাজ করে  ভয় নাকি অন্যকিছু!  জিব্রাইলের মতো ছোট হতে হতে  একটা পিঁপড়ার মতো নিজেকে অণুজীব  মনে করি ভয়ের সঙ্গে প্রেমের পিপাসা বেড়ে যায় দ্রুত গতি  তখন আকাশটা আর আকাশ থাকেনা রঙিন মেঘের ছাউনি আর প্রজাপতির স্বপ্ন  দূর নীলিমা থেকে নেমে আসে  আমার কাছে  আমি মিশে যেতে চাই তোমার সত্বায় আনাল হকের চিৎকার শুরু হয়ে যায়  সমস্ত শরীর জুড়ে  একা আমি খুব কাঁদি আকাশ ভাঙা মেঘ আমি নির্জনতা চাই যেন শুধু তুমি আর আমি  নিরালায় প্রেম নিবেদন করি গোপন অভিলাষে। 

বাঁধন হারা

বাঁধন হারা ভালবাসা।।   --- মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  আমাকে একমুঠো অবকাশ দাও  আমি দেব একটা রঙিন আকাশ  আমাকে একরাশ হাসি দাও আমি ফরহাদের মতো পাহাড় কেটে  এনে দেব ভালবাসার নির্ঝর  লাইলীর বিরহী চোখে এঁকে দেব প্রেমের অনবদ্য ছন্দ উন্মাদের মতো ছুটে যাব দিক হতে দিগন্তরে প্রেম পিপাসুর অনিবার তৃষা নিয়ে  মেলে দেব নিজেকে  সাগরে বিছানো কার্পেটের উপর  ঢেউয়ের পর ঢেউ খেলে যাবে এ বুকে  বর্ষাবে বারিধারা  আমার ভালবাসা সেদিন  পাহাড় চূড়ায় কেতন উড়ায়ে জানিয়ে দিবে আমি  অলঙ্ঘ্য এক বাঁধন হারা

ভগ্ন চৌকাঠে কার হিতকামনা

ভগ্ন চৌকাঠে যার হিতকামনা    - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  মা মানে একটা দরজা খোলা থাকে  সময় অসময় কিছুই বোঝেনা  অন্তরাল বলে তার কাছে কিছু নেই  নির্দ্বিধায় গমণাগমণ রক্তের বিন্দু থেকে সেই যে সূচনা  স্বপ্নিল আকাশ জুড়ে অনন্য রচনা  সমস্ত না - গোয়ারকে জরায়ুর মুখে  বন্দি রেখে উচ্চারণ করে - "খোকা তোকে আমি ভালবাসি" কাল বয়ে যায় টিক টিক টিক  হাত-পা গুলো কারণে অকারণে  চৌকাঠে আঘাত করে  কখনো কখনো   টুকরো টুকরো ভেঙে পড়ে  ভগ্ন চৌকাঠ থেকে শব্দ ভেসে আসে  খোকা কেমন আছিস  তোর মঙ্গল হোক  সুস্থ থাক সুন্দর থাক...  মা মানে ভেঙে পড়া চৌকাঠ থেকে  পরম্পরাগত হিতকামনা  যার কোন উপমা হয়না।