Posts

শূণ্যের পরে

শূণ্যের পরে কিছু নেই মনে হয় আর তবু খুঁজে ফিরি বারবার  কে ডাকে আড়াল থেকে চেনা নাম ধরে  যেন ভালবাসা বিলাবে সে অকাতরে  আমি চেয়ে আছি অপলক নয়নে  আকাশের দিকে অশান্ত মনে  তার প্রতীক্ষার মূহুর্তগুলো চক্রাকারে ঘুরে  হৃদয়ের কন্দরে কন্দরে  শূণ্যের পরে এক দিগন্তবিহীন আকাশ  কিছু সুখ কিছু দুখ কিছু দীর্ঘশ্বাস  শায়িত স্বপ্নের রাশি রাশি অসুখ ও বেদনা  শুয়ে আছে সবুজ গালিচায় আমরা তা দেখি না শূণ্যের আড়ালে স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রেম ও মতান্তর  দুর্বোধ্য ভাষায় খেলে যায় নিরন্তর  রচে উপাখ্যান নি:শব্দ অক্ষরে নিশীথ রাতের বুক চিরে  রসিকজন মেতে ওঠে বিভোর নেশায়  অতি মানুষের অববাহিকায়।  কে তারে পায় কে তারে পরায় সিঁদুর  নিজেকে নিশ্চিহ্ন করে প্রেমিকের বিচলিত সুর  বিরহের প্রতিধ্বনিতে ভারি প্রতিটি প্রহর 

নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।।

নিরাপদ প্রত্যাবর্তন    মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  সন্ধ্যা মেলানো মাঠে  রউয়া বিলের পাড়ে সেই মেয়েটি তই তই তিরি তিরি বলে কাকে ডাকে  দল বেধে নেমে আসা এক ঝাঁক হাঁস  পালক ঝাড়তে ঝাড়তে সায় দেয় সেই ডাকে  মেয়েটির আঁচলে ভয় সম্ভ্রমে ওড়না টেনে  ঢেকে রাখে বুক  সন্ধ্যাটা নিরিবিলি নেমে আসুক।  নিরাপদে ঘর ফেরা হোক। 

রক্তাক্ত ঈদের চাঁদ

ঈদের রক্তাক্ত হেলাল      মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  তুমি খুঁজছো খুশির চোখে ঈদের হেলাল আমি দেখছি আকাশ ভরা  টইটম্বুর লালে লাল উঠেছে ঈদের চাঁদ    চাঁদ নয় মনে হয়  শিকারীর ফাঁদ মাসুম শিশুর খুনে রঞ্জিত সভ্যতার মিনার  কলংকের বিপরীতে অলংকৃত কী বিপুল সমাহার  কোথা ঈদ আমি যাই ঈদগার মাঠে হৃদে বাঁধা কালো ব্যাজ টলটল  চোখে জল ফোটে  বুকের ভেতরে এক জ্বলন্ত অঙ্গার  মানুষের পৃথিবীতে এ কী সনসার ইনসাফ জেগে ওঠবে কবে আর কেউ কি বলার নেই -'থামো  কি হচ্ছে এসব?  সব মাঠে নামো' নরসংহারের ধারাসার বন্ধ হোক খুশির বার্তা নিয়ে শাওয়ালের চাঁদ উঠুক ইবলিসের  উড়ন্ত পতাকা ভেঙে পড়ুক  রক্তাক্ত চাঁদ দেখিতে চাইনা আর ঈদ তুমি এসো মানবতার বার্তা নিয়ে  ফিরে এসো বারবার।  গ্রাম ও পোস্ট : বড়যাত্রাপুর। জেলা - কাছাড়। প্রদেশ - আসাম। ভারত।  মোবাইল নং +৯১৯৪৩৫৮৮১৯০৫

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।        - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  বাঙালি হয়ে জন্ম নিয়েছি এই বাঙলার বুকে  আসামের প্রান্ত সীমায় হাজার  বছর আগে প্রপিতামহের হাড়ের গন্ধ এ মাটির শিরায় শিরায় পথে পথে আজ পাড়ায় পাড়ায়  জিজ্ঞাসার হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত  আমার পরিচয়  কখনো মিয়া কখনো ঘুসপেটি কারো শ্লোগানে আমি বাংলাদেশী এন আর সি তে বংশবৃক্ষে শেষ স্বেদবিন্দু রক্তাকারে ঢেলে দিয়ে  প্রমাণ করতে হল এখানে আমার বাড়ি  এখানে আমার ঘর তারপরও  গেলনা মিছে তকমা  কে আমার মা কে আমার বাবা কোনটা বা আমার দেশ তাহলে আমি এক বায়বীয় সন্তান?  আজ থেকে বাসা বাধবো মেঘের দেশে  ওড়ে যাবো দূর থেকে দূরে অনিকেত নিরুদ্দেশে দু:খের গলিতে ঘুরে বৃষ্টি হয়ে পড়ব ঝরে  তোমাদের বাড়ির উঠোনে  আগুনের উল্কা বৃষ্টি নয়  করুণার বারিধারা হয়ে  অন্তরীক্ষ  থেকে  তবু বলতে পারবো আমি জারজ নই এই দেশে এই হাওয়ায় এই তৃণভূমে আমি জন্মেছি তোমাদের অনেক আগে  ভূমিপুত্র ভূমিকন্যা নই মাটির সন্তান  ইতিহাস ক্ষয়ে যেতে পারে  উইপোকা খেয়ে নিতে পারে আমার কংকালে পাবে ...

ছেঁড়া ছাতা

ছেঁড়া ছাতা      - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  দু:খের গলিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে গুটিকয়েক কবিতা  যেন আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে একটা ছেঁড়া ছাতা আমি যখন নিরুপায় হয়ে দু:খের সঙ্গে করি গলাগলি  তারা তখন মুরলি বাঁশির সুর তুলে গায় ভাটিয়ালি  সুখের কপালে কবিতা হয়না কবিতা চায় ভালবাসার বিরহ শিশ্নতোড়া বন্ধু আমার কবিতা লিখে অহরহ। 

স্মৃতিগুলো যদি সশরীরে নেমে আসে

শিশির ভেজা ঘাসে তোমার স্মৃতি ভাসে  তন্ময় মেঘের উড়ন্ত ডানায়  নদীর কিনারে নিস্তব্ধ গাছের বুকে  বাসা বাঁধে অচেনা পাখির মতো  ভোরের আলোয় কিচিমিচি সুরে  আওড়ায় পেছনে ফেলে আসা  স্মৃতির টুকরো টুকরো কথা  ঘুমচোখে আমি জেগে ওঠে শুনি  আবার হৃদয় জুড়ে তোলপাড় ওঠে  তামন্না করি ভীষণ ঝড়ের বেগে  যদি স্মৃতিগুলি ফিরে আসে বাস্তবের জীবন্ত শরীর নিয়ে  আমি কি তাকে দিতে পারি  তার চাহতের ভালবাসা  তার প্রাপ্য সকল আশা ও ভরসা  আমি কি হতে পারি তার নয়নের মণির মতন  সর্বপ্রিয় জন তার বহল হৃদয় জুড়ে  এঁকে দিতে পারি আমার অনন্য আসন? 

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে -।।       মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  তাহলে কি সে-ও লিখে  সারারাত খাতার পাতায়  কবিতার দুর্মূল্য অক্ষর  খুঁজে ফিরে ঈপ্সিত মুখ ভুবনের চরাচরে?  উত্তর বায়ুর কাছে হাত পাতে নতজানু হয়ে থাকে সারারাত  এ কীসের প্রণিপাত এ কীসের গুঞ্জন  নিশীথ পাখির মতন কাকে ডাকে  অন্ধকার আকাশের বুকে  সহসা উদ্বেলিত চোখে  ধরা পড়ে মিটিমিটি শ্রাবণী অক্ষর  সবকিছু লিখা শেষ হলে  দু'বাহুর বেষ্টনীতে মেলে ধরে  আদ্যোপান্ত অক্ষরের সমারোহে  কবিতার প্রাঞ্জল শরীর।  কবিতা আসল নয় সৃষ্টি আর লয়ের অফুরন্ত খেলা  খেলতে খেলতে ফুটে ওঠে স্বগতোক্তি  আমার নিজস্ব কথা কিছু প্রেম কিছু ব্যাথা কিছু কথা  কিছু অলৌকিক অনুভূতি  কাউকে বুঝাতে না পেরে নীরবতার শ্লথ গতি  নি:সঙ্গ সূর্যের মতো  পায়চারি আকাশের দেশে  অতৃপ্ত হৃদয়ের গর্ভে  নেমে আসে কোমল অংকুর  লোকে বলে কবিতা কবিতা  কী সুন্দর ছন্দ ও সুর।।