Posts

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।

বাসা বাধবো মেঘের দেশে  বাঙালি হয়ে জন্ম নিয়েছি এই বাঙলার বুকে  আসামের প্রান্ত সীমায় দু'শ বছর আগে প্রপিতামহের হাড়ের গন্ধ এ মাটির শিরায় শিরায় পথে পথে আজ পাড়ায় পাড়ায়  জিজ্ঞাসার হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত  আমার পরিচয়  কখনো মিয়া কখনো ঘুসপেটি কারো শ্লোগানে আমি বাংলাদেশী এন আর সি তে বংশবৃক্ষে শেষ স্বেদবিন্দু রক্তাকারে ঢেলে দিয়ে  প্রমাণ করতে হল এখানে আমার বাড়ি  এখানে আমার ঘর তারপরও  গেলনা মিছে তকমা  কে আমার মা কে আমার বাবা কোনটা বা আমার দেশ তাহলে আমি এক বায়বীয় সন্তান  আজ থেকে বাসা বাধবো মেঘের দেশে  ওড়ে যাবো দূর থেকে দূরে অনিকেত নিরুদ্দেশে দু:খের গলিতে ঘুরে বৃষ্টি হয়ে পড়ব ঝরে  তোমাদের বাড়ির উঠোনে  আগুনের পাথর বৃষ্টি অন্তরীক্ষ থেকে  তবু বলতে পারবো আমি জারজ নই এই দেশে এই হাওয়ায় এই তৃণভূমে আমি জন্মেছি তোমাদের অনেক আগে  ভূমিপুত্র ভূমিকন্যা নই মাটির সন্তান  ইতিহাস ক্ষয়ে যেতে পারে উইপোকা খেয়ে নিতে পারে আমার কংকালে পাবে আমার পরিচয়  সাক্ষী দিবে বুকের প্রতিটি হাড় আমি আবাদ করেছি এই ভূমি  ভাষা ও সংস্কৃতি  আমি আসামের ব...

স্মৃতিগুলো যদি সশরীরে নেমে আসে

শিশির ভেজা ঘাসে তোমার স্মৃতি ভাসে  তন্ময় মেঘের উড়ন্ত ডানায়  নদীর কিনারে নিস্তব্ধ গাছের বুকে  বাসা বাঁধে অচেনা পাখির মতো  ভোরের আলোয় কিচিমিচি সুরে  আওড়ায় পেছনে ফেলে আসা  স্মৃতির টুকরো টুকরো কথা  ঘুমচোখে আমি জেগে ওঠে শুনি  আবার হৃদয় জুড়ে তোলপাড় ওঠে  তামন্না করি ভীষণ ঝড়ের বেগে  যদি স্মৃতিগুলি ফিরে আসে বাস্তবের জীবন্ত শরীর নিয়ে  আমি কি তাকে দিতে পারি  তার চাহতের ভালবাসা  তার প্রাপ্য সকল আশা ও ভরসা  আমি কি হতে পারি তার নয়নের মণির মতন  সর্বপ্রিয় জন তার বহল হৃদয় জুড়ে  এঁকে দিতে পারি আমার অনন্য আসন? 

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে

কবিতাকে খুঁজে খুঁজে -।।       মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।।  তাহলে কি সে-ও লিখে  সারারাত খাতার পাতায়  কবিতার দুর্মূল্য অক্ষর  খুঁজে ফিরে ঈপ্সিত মুখ ভুবনের চরাচরে?  উত্তর বায়ুর কাছে হাত পাতে নতজানু হয়ে থাকে সারারাত  এ কীসের প্রণিপাত এ কীসের গুঞ্জন  নিশীথ পাখির মতন কাকে ডাকে  অন্ধকার আকাশের বুকে  সহসা উদ্বেলিত চোখে  ধরা পড়ে মিটিমিটি শ্রাবণী অক্ষর  সবকিছু লিখা শেষ হলে  দু'বাহুর বেষ্টনীতে মেলে ধরে  আদ্যোপান্ত অক্ষরের সমারোহে  কবিতার প্রাঞ্জল শরীর।  কবিতা আসল নয় সৃষ্টি আর লয়ের অফুরন্ত খেলা  খেলতে খেলতে ফুটে ওঠে স্বগতোক্তি  আমার নিজস্ব কথা কিছু প্রেম কিছু ব্যাথা কিছু কথা  কিছু অলৌকিক অনুভূতি  কাউকে বুঝাতে না পেরে নীরবতার শ্লথ গতি  নি:সঙ্গ সূর্যের মতো  পায়চারি আকাশের দেশে  অতৃপ্ত হৃদয়ের গর্ভে  নেমে আসে কোমল অংকুর  লোকে বলে কবিতা কবিতা  কী সুন্দর ছন্দ ও সুর।। 

কথা বলবোনা কোনদিন।

আর কথা বলবোনা কোনদিন।।  মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  জানি থাকবো না বেশি দিন ফিরে যেতে হবে  একটা সুনির্দিষ্ট পরিভ্রমণ নিয়ে  এই আসা যাওয়া  প্রতিদিন জ্বলন্ত মোমের মতো  ফোঁটা ফোঁটা ঝরে যাচ্ছে আয়ু  দেখতে চেয়েছিলাম একটা  দূষণবিহীন আকাশ আপ্লূত রশ্মিতে হেসে ভাসা বিশুদ্ধ বাতাস।  চারপাশে বনফুলে ঘেরা রঙিন চাদর  রাতের জ্যোৎস্না ধারা নিশাচর পাখির  অবিরত সুরের ঝংকার  নক্ষত্রের ভালবাসা বিনিময়  আর এক সুললিত নদী  পেয়েছি বাসি রক্তে লুটোপুটি বিদ্বেষের আক্রোশে ভরা হিংসার প্রজ্বলিত আগুন নীল খসে পড়ে গলিত লাভার মতো  আবছা অন্ধকার  বিষন্ন বিবেক কুয়াশার চাদর বিছিয়ে  রাজতন্ত্রের মন্ত্র পাঠ করে  বাতাস ক্রমশ ভারি হয়ে ওঠছে  ঠোঁটে ঠোঁটে বর্ষে বাণী অমানবিকতার চেয়ে দেখি ফুলে ফুলে ঝরে বিষাক্ত মধুর স্পন্দন  জানিনা নূহের কিস্তি আবার কবে ফিরে আসবে তুলে নিতে  নাফরমান কেনানের সহচর  আমি কি দেখব সেই সুসংহত পৃথিবীকে যার স্বপ্ন যুগযুগ পুষেছি অন্তরে  মধুমাখা বুলি আর শুধু ভালবাসা  হরেকের সুখেদুঃখে সকলেই পরম প্রত্য...

আমার একটা নদী ছিল ।

সেই নদীটা শুকিয়ে গেছে  - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী। আমার একটা নদী ছিল অনেক লম্বা শরীর  বুকে তার  ছিল ডুবোজল গাছে ঘেরা তীর  পাখিরা সব উড়ে এসে জল খেত এই ঘাটে  পাখপাখালি সকাল সন্ধ্যা খেলতো বুকের মাঠে  তিড়িং তিড়িং নাচতো ফড়িং উড়তো প্রজাপতি  রাতের বেলায় হুরপরীরা খেলত আত্মরতি  স্বপ্নঘোরে উড়িয়ে নিত রাজকুমারীর ভেলা  বাসত ভাল প্রেম বিলাতো কেমন সারাবেলা  সেই নদীটা এখন কেন শুকিয়ে গেল হঠাৎ  হিংসা দ্বেষে শুরু হল ভীষণ উৎপাত সময়গুলো হারিয়ে গিয়ে নামল কালবেলা  সন্ধ্যা নামে তরতরিয়ে মানুষ চেনার পালা ।

পোড়া অক্ষরে কবিতা।।

  পোড়া অক্ষরে কবিতা লিখছি  দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ছে গন্ধের কুয়াশা  আশ্বিনের ঢেউ খেলানো ধানের ডগা মাথা উঁচু করে জানিয়ে যাচ্ছে ভালবাসা  পথচারী মাথা নিচু করে হেঁটে যায় আলপথে নিশুন দুপুর বেলায়  কাপড়ে লেগে আছে কাদামাটির দাগ যেন দু'হাতে জড়িয়ে ধরে জানাচ্ছে  শুভেচ্ছা সলাগ  ওদের ছোঁয়ায় কবিতা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত  কিশোরী বালিকা মেলে ধরে আদিম স্পর্শ  কিছু স্বপ্নের মালা গেঁথে নিয়ে আসে বীথিকা জুঁই  কবিতা জেগে ওঠে সেজে ওঠে মরমি ভূঁই। 

জীবন - ১

প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত  জীবনকে দেখেছি দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় বারবার উল্টে নিয়ে পড়তে হয়  তারপর বাকিটুকু অপর পৃষ্ঠায়.... পৃষ্ঠা উল্টাতে গিয়ে ধরা পড়ে  উইপোকা খেয়ে নিয়েছে অক্ষরগুলো  এখন সব গুমনামে অতীত  ছেঁড়া বস্ত্রে রাস্তায় শুয়ে থাকা রমণী  হারানো ঠিকানায় নিজেকে খুঁজতে গিয়ে  পুরুষের হাজার ধমক গলায় সুশোভিত অলংকার  তবু হাতড়াতে থাকি এখানে ওখানে  ফেলে আসা পথের আনাচে কানাচে  আমার কন্ঠহারের ফেলে যাওয়া গুটি  অনর্গল পাতার পর পাতা উল্টে যাই আলোটা যতক্ষণ নিভে না যায়  অপর পৃষ্ঠায় অপলক সন্ধানী চোখ।