Posts

Showing posts from February, 2026

রক্তাক্ত ঈদের চাঁদ

ঈদের রক্তাক্ত হেলাল      মোহাজির হুসেইন চৌধুরী  তুমি খুঁজছো খুশির চোখে ঈদের হেলাল আমি দেখছি আকাশ ভরা  টইটম্বুর লালে লাল উঠেছে ঈদের চাঁদ    চাঁদ নয় মনে হয়  শিকারীর ফাঁদ মাসুম শিশুর খুনে রঞ্জিত সভ্যতার মিনার  কলংকের বিপরীতে অলংকৃত কী বিপুল সমাহার  কোথা ঈদ আমি যাই ঈদগার মাঠে হৃদে বাঁধা কালো ব্যাজ টলটল  চোখে জল ফোটে  বুকের ভেতরে এক জ্বলন্ত অঙ্গার  মানুষের পৃথিবীতে এ কী সনসার ইনসাফ জেগে ওঠবে কবে আর কেউ কি বলার নেই -'থামো  কি হচ্ছে এসব?  সব মাঠে নামো' নরসংহারের ধারাসার বন্ধ হোক খুশির বার্তা নিয়ে শাওয়ালের চাঁদ উঠুক ইবলিসের  উড়ন্ত পতাকা ভেঙে পড়ুক  রক্তাক্ত চাঁদ দেখিতে চাইনা আর ঈদ তুমি এসো মানবতার বার্তা নিয়ে  ফিরে এসো বারবার।  গ্রাম ও পোস্ট : বড়যাত্রাপুর। জেলা - কাছাড়। প্রদেশ - আসাম। ভারত।  মোবাইল নং +৯১৯৪৩৫৮৮১৯০৫

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।

বাসা বাধবো মেঘের দেশে।।        - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  বাঙালি হয়ে জন্ম নিয়েছি এই বাঙলার বুকে  আসামের প্রান্ত সীমায় হাজার  বছর আগে প্রপিতামহের হাড়ের গন্ধ এ মাটির শিরায় শিরায় পথে পথে আজ পাড়ায় পাড়ায়  জিজ্ঞাসার হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত  আমার পরিচয়  কখনো মিয়া কখনো ঘুসপেটি কারো শ্লোগানে আমি বাংলাদেশী এন আর সি তে বংশবৃক্ষে শেষ স্বেদবিন্দু রক্তাকারে ঢেলে দিয়ে  প্রমাণ করতে হল এখানে আমার বাড়ি  এখানে আমার ঘর তারপরও  গেলনা মিছে তকমা  কে আমার মা কে আমার বাবা কোনটা বা আমার দেশ তাহলে আমি এক বায়বীয় সন্তান?  আজ থেকে বাসা বাধবো মেঘের দেশে  ওড়ে যাবো দূর থেকে দূরে অনিকেত নিরুদ্দেশে দু:খের গলিতে ঘুরে বৃষ্টি হয়ে পড়ব ঝরে  তোমাদের বাড়ির উঠোনে  আগুনের উল্কা বৃষ্টি নয়  করুণার বারিধারা হয়ে  অন্তরীক্ষ  থেকে  তবু বলতে পারবো আমি জারজ নই এই দেশে এই হাওয়ায় এই তৃণভূমে আমি জন্মেছি তোমাদের অনেক আগে  ভূমিপুত্র ভূমিকন্যা নই মাটির সন্তান  ইতিহাস ক্ষয়ে যেতে পারে  উইপোকা খেয়ে নিতে পারে আমার কংকালে পাবে ...

ছেঁড়া ছাতা

ছেঁড়া ছাতা      - মোহাজির হুসেইন চৌধুরী।  দু:খের গলিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে গুটিকয়েক কবিতা  যেন আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে একটা ছেঁড়া ছাতা আমি যখন নিরুপায় হয়ে দু:খের সঙ্গে করি গলাগলি  তারা তখন মুরলি বাঁশির সুর তুলে গায় ভাটিয়ালি  সুখের কপালে কবিতা হয়না কবিতা চায় ভালবাসার বিরহ শিশ্নতোড়া বন্ধু আমার কবিতা লিখে অহরহ। 

স্মৃতিগুলো যদি সশরীরে নেমে আসে

শিশির ভেজা ঘাসে তোমার স্মৃতি ভাসে  তন্ময় মেঘের উড়ন্ত ডানায়  নদীর কিনারে নিস্তব্ধ গাছের বুকে  বাসা বাঁধে অচেনা পাখির মতো  ভোরের আলোয় কিচিমিচি সুরে  আওড়ায় পেছনে ফেলে আসা  স্মৃতির টুকরো টুকরো কথা  ঘুমচোখে আমি জেগে ওঠে শুনি  আবার হৃদয় জুড়ে তোলপাড় ওঠে  তামন্না করি ভীষণ ঝড়ের বেগে  যদি স্মৃতিগুলি ফিরে আসে বাস্তবের জীবন্ত শরীর নিয়ে  আমি কি তাকে দিতে পারি  তার চাহতের ভালবাসা  তার প্রাপ্য সকল আশা ও ভরসা  আমি কি হতে পারি তার নয়নের মণির মতন  সর্বপ্রিয় জন তার বহল হৃদয় জুড়ে  এঁকে দিতে পারি আমার অনন্য আসন?